ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর আগে ২০২৫ সালেই স্বর্ণের দামে দেখা গিয়েছিল অভূতপূর্ব উত্থান—সে বছর এই মূল্যবান ধাতুটির দাম ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল। সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরেও স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয় ভরি হিসেবে। বর্তমানে দেশীয় বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। স্থানীয় হিসাবে প্রায় ২.৪৩ ভরি স্বর্ণের সমান এক আউন্স।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর মধ্যে চলমান টানাপোড়েন, পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হওয়ায় স্বর্ণের দামে এই উল্লম্ফন ঘটেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্যনীতি, যা বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
গত শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে যায়, তবে কানাডার পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
সাধারণত অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা যেসব সম্পদকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে বিবেচনা করেন, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু তার অন্যতম। এই কারণেই শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার দামেও দেখা গেছে নজিরবিহীন উত্থান। গত শুক্রবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছর বিশ্ববাজারে রুপার দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বাড়ার পেছনে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতাসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে।
স্বর্ণের দামে বিশ্বরেকর্ড
5