নিয়মিত সিনেমা দেখা, জাদুঘর বা শিল্পকলা প্রদর্শনীতে ঘুরে বেড়ানো শুধু মন ভালোই রাখে না, শরীরের জৈবিক বয়সও কম রাখতে সাহায্য করতে পারে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের এক নতুন গবেষণায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বয়স্ক ব্যক্তি নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, তাদের শরীরে বয়সের ছাপ তুলনামূলক ধীরে পড়ে। অর্থাৎ, একই বয়স হলেও তাদের শারীরিক সক্ষমতা অন্যদের তুলনায় বেশি তরুণ থাকতে পারে।
গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নেন, যার মধ্যে ৪৭ শতাংশ ছিলেন পুরুষ। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চার হাজার ২০৭টি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে অংশগ্রহণকারীদের সিনেমা দেখা, জাদুঘর, শিল্পকলা প্রদর্শনী ও মঞ্চনাটকে অংশ নেওয়ার অভ্যাস মূল্যায়ন করা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া হয়। যারা কয়েক মাসে একাধিকবার এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের গড় নম্বর ছিল ৭ দশমিক ৩। আর যারা বছরে একবার বা তারও কম অংশ নিয়েছেন, তাদের গড় নম্বর ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩।
এরপর রক্তচাপ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচকের ভিত্তিতে তাদের জৈবিক বয়স নির্ধারণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত সিনেমা দেখা বা জাদুঘরে যাওয়া ব্যক্তিদের গড় জৈবিক বয়স অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন বছর কম।
ফলাফল আরও নিশ্চিত করতে এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য চার বছর ধরে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানেও দেখা যায়, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের জৈবিক বয়স তুলনামূলক কম ছিল।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা শুধু যুক্তরাজ্যে পরিচালিত হয়েছে। তাই অন্য দেশের মানুষের ক্ষেত্রে একই ফল নাও মিলতে পারে। পাশাপাশি এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর ও শিল্পকলা প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে; অন্যান্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
গবেষকদের মতে, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাও সুস্থ ও সক্রিয় জীবন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।