বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। তবে উন্নতি হলেও বৈশ্বিক অবস্থানে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে দেশের পাসপোর্ট। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী হেনলি পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে রয়েছে, যেখানে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া।
লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত এই সূচকে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট মূল্যায়ন করা হয়েছে। কোনও দেশের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় কতটি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন—মূলত সেই সক্ষমতার ভিত্তিতেই তৈরি হয় এই তালিকা।
সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ৩৫টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। একই সুবিধা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদেরও। তবে এক বছর আগে বাংলাদেশের নাগরিকরা ৩৭টি গন্তব্যে এই সুবিধা পেতেন। অর্থাৎ অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধার সংখ্যা কমেছে।
কেন বাংলাদেশের পাসপোর্ট পিছিয়ে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি নির্ভর করে শুধু অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নয়; বরং কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অভিবাসন ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক আস্থার ওপরও।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট দুর্বল অবস্থানে থাকার কয়েকটি কারণ হলো—
ভিসা নীতিতে কঠোরতা: অনেক উন্নত দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুলনামূলক কঠোর ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
অবৈধ অভিবাসনের উদ্বেগ: কিছু দেশে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা ভিসা অনুমোদনে প্রভাব ফেলে।
কূটনৈতিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা: শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ভিসামুক্ত চুক্তির সংখ্যা কম।
আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি: উন্নত দেশগুলোর নাগরিকরা যেসব দেশে সহজে প্রবেশ করতে পারেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত।
কেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একই অবস্থানে?
উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন দেশ। দেশটির নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সুযোগ সীমিত এবং অনেক দেশের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কও জটিল। ফলে উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টের ভ্রমণ সক্ষমতা কম।
অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ উত্তর কোরিয়ার তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হলেও ভিসামুক্ত সুবিধার দিক থেকে দুই দেশের অবস্থান একই জায়গায় এসেছে। এর মূল কারণ হলো—দুই দেশের পাসপোর্টধারীরা প্রায় সমান সংখ্যক গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ পান।
শীর্ষে কারা?
এবারের সূচকে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি রয়েছে ৫২তম স্থানে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান ৮১তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, বাংলাদেশ ৯৭তম, নেপাল ৯৮তম এবং পাকিস্তান ১০১তম।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট সূচকে সামান্য অগ্রগতি হলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সুবিধায় এগিয়ে যেতে হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক আস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ কেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একই অবস্থানে?
6