BDOUTLOOK
  • হোম
  • দেশ
    • জাতীয়
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • বরিশাল
    • সিলেট
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
  • বিশ্ব
  • প্রবাস
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • আফ্রিকা
    • এশিয়া
    • অস্ট্রেলিয়া
  • রাজনীতি
  • অর্থবাণিজ্য
  • খেলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • ফিচার
    • শিল্পসাহিত্য
      • কবিতা ও ছড়া
      • গল্প
      • প্রবন্ধ-আলোচনা
      • রম্য
      • শিশুসাহিত্য
      • স্মৃতিকথা
      • শিল্পসাহিত্যের খবর
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • লাইফস্টাইল
    • ট্যুরিজম
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • ক্যাম্পাস
    • নারী
  • অপরাধ আইন আদালত
  • সাক্ষাৎকার
BDOUTLOOK
  • হোম
  • দেশ
    • জাতীয়
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • বরিশাল
    • সিলেট
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
  • বিশ্ব
  • প্রবাস
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • আফ্রিকা
    • এশিয়া
    • অস্ট্রেলিয়া
  • রাজনীতি
  • অর্থবাণিজ্য
  • খেলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • ফিচার
    • শিল্পসাহিত্য
      • কবিতা ও ছড়া
      • গল্প
      • প্রবন্ধ-আলোচনা
      • রম্য
      • শিশুসাহিত্য
      • স্মৃতিকথা
      • শিল্পসাহিত্যের খবর
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • লাইফস্টাইল
    • ট্যুরিজম
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • ক্যাম্পাস
    • নারী
  • অপরাধ আইন আদালত
  • সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞাপন ও ডোনেশন
BDOUTLOOK
BDOUTLOOK
  • হোম
  • দেশ
    • জাতীয়
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • বরিশাল
    • সিলেট
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
  • বিশ্ব
  • প্রবাস
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • আফ্রিকা
    • এশিয়া
    • অস্ট্রেলিয়া
  • রাজনীতি
  • অর্থবাণিজ্য
  • খেলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • ফিচার
    • শিল্পসাহিত্য
      • কবিতা ও ছড়া
      • গল্প
      • প্রবন্ধ-আলোচনা
      • রম্য
      • শিশুসাহিত্য
      • স্মৃতিকথা
      • শিল্পসাহিত্যের খবর
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • লাইফস্টাইল
    • ট্যুরিজম
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • ক্যাম্পাস
    • নারী
  • অপরাধ আইন আদালত
  • সাক্ষাৎকার

News 24 Hours BDOUTLOOK.COM

ভ্রমণ

নিকলি হাওড়ে হারিয়ে গেলাম

বিডিআউটলুক August 13, 2026
August 13, 2026
শেয়ার Facebook
13

তনুজা মণ্ডল ||

কিশোরগঞ্জের নিকলি হাওড়ের মধ্য দিয়ে মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত টানা যে রাস্তা চলে গিয়েছে, দুইপাশে বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝ বরাবর সেই রাস্তায় ভ্রমণের ছবি দেখে দেখে আমি বহুদিন ধরে স্বপ্ন দেখেছি- ওই পথে হাঁটব একদিন। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেও সফল হতে পারছিলাম না।
অবশেষে একটা সুযোগ এলো। হাওড়ে বেড়ানোর একটা নিমন্ত্রণ পেলাম। বেড়ানোটা আধা দাপ্তরিক। কারণ, নিমন্ত্রণ যারা করেছেন, তারা দাপ্তরিক কেউ নন, কিন্তু, দাপ্তরিক কাজের সূত্রেই তাদের সাথে আমার পরিচয়। আমি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় শ্রোতা বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকায় অনেক শ্রোতা এবং শ্রোতা ক্লাবের সাথে পরিচয় ও যোগাযোগ হয়েছিল। শ্রোতাদের বিভিন্ন মিলনমেলায় আমি আমন্ত্রণ পেতাম। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সেসব আয়োজনে কখনো যেতে পারিনি। এই আমন্ত্রণে আমি খুব আগ্রহী হলাম। জানলাম, বাংলাদেশ বেতারের ডিজি স্যার, পরিচালক (অনুষ্ঠান) স্যার এবং কয়েকজন জনপ্রিয় উপস্থাপকসহ অফিসের অনেকেই নিমন্ত্রণ পেয়েছেন, তাঁরা যাবেন। খানিকটা দাপ্তরিক পরিবেশ, আবার পুরোপুরি নয়।

যাহোক, ২৮ শে জুলাই, ২০২৩, শুক্রবার আমরা হাওড়ে যাব, সব ঠিকঠাক। নিকলি বেড়িবাঁধ থেকে নৌকা ছাড়বে সকাল সাড়ে ৯ টায়, যাবে মিঠামইন। আয়োজকরা বারবার আমাকে বললেন, ঢাকা থেকে অবশ্যই ভোর ৬ টার মধ্যে রওনা দিতে, নইলে সাড়ে ৯ টায় পৌঁছানো যাবে না।

আগেরদিন রাতে মোবাইল ফোনে ভোর সাড়ে ৫ টার এলার্ম ঠিক করে, ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। রাতে ঘুমানোর সময় আমার ফোনের রিংটোন সাধারণত বন্ধ থাকে। ভোরের এলার্ম বেজে গেল, ফোন বিছানা থেকে দূরে চার্জে থাকায় আমি টের পেলাম না। একজন উপস্থাপক যাবেন নিজের গাড়িতে, তিনি আমাকে সাথে নেবেন, এমনই কথা ছিল। তিনি ভোর বেলা ফোনের পরে ফোন করে যেতে লাগলেন, মোবাইল ফোনের রিংটোন বন্ধ থাকায় আমি জানতে পেলাম না।
ঘুম ভাঙলো সাড়ে ৭ টায়। ধড়মড় করে উঠে দেখি বেলা মাথার উপরে। কী করি কী করি, যাব কি যাব না- করে আরও মিনিট দশেক গেল!
অবশেষে যাব ভেবে ১০ মিনিটে রেডি হয়ে ফোন করলাম সঙ্গীকে। সকাল ৮ টায় বেরিয়ে পড়লাম বাসা থেকে।

সাড়ে ৮ টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করল- “আপনারা কতদূর? আপনারা কতদূর? ডিজি স্যার তো কাছাকাছি।”
প্রথম প্রথম কয়েকবার ফোনে খুব অস্থির লাগলো, ডিজি স্যার পৌঁছে গেলে নৌকা দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না কিছুতেই। সুতরাং, অস্থিরতা স্বাভাবিক। কিছুক্ষণ পর আমি অস্থিরতা ঝেড়ে ফেলে শ্রোতাদের বললাম, আমাদের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। আমরা যে কোনভাবে মিঠামইন পৌঁছে যাব, স্যার পৌঁছে গেলে আপনারা নৌকা ছেড়ে দিন।

নিকলি হাওড়ে লেখক

ডিজি স্যার পৌঁছাতে দেরিই হল, বেলা ১১ টা। তারা নৌকা ছাড়ল সাড়ে ১১ টায়। আমরা তখনও ঘন্টাখানেকের দূরত্বে।

কটিয়াদি পর্যন্ত ভালোই গেলাম। এরপর ঢুকতে হল এক আঁকাবাঁকা চিকন রাস্তায়, গতি কমে গেল। এদিকে আয়োজকরা তখনও অস্থির হয়ে ফোন করছেন। কারণ, আমরা যদি মিঠামইনেও তাদের ধরতে না পারি, তবে, এই ভ্রমণ অর্থহীন হবে।

নিকলি বেড়িবাঁধ থেকে যখন ১৫ মিনিটের দূরত্বে আছি, তখন সেই চিকন রাস্তায় উলটো দিক থেকে এক ট্রাক ঢুকে পড়ল, আমরা আটকে গেলাম। গেলাম তো গেলামই।
সেখানে ঘন্টাখানেক বসে রইলাম। বেলা ১২টার বেশি বাজে, সকাল থেকে প্রায় কিছুই খাওয়া হয়নি, তাড়াহুড়োয় সাথে জল পর্যন্ত নেইনি। যখন হুশ হয়েছে, ততক্ষণে আমরা এমন ঘোরতর গ্রামের রাস্তায় ঢুকে পড়েছি যে, সেখানে জল কেনার মত কোন দোকান চোখে পড়েনি। ক্ষিদে তেষ্টায় আমাদের অবস্থা কাহিল। কিন্তু, অস্থিরতায় সেসব খুব টের পাচ্ছি না। আমাদের অস্থিরতা তখন এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, পারলে আমরা ৬ কিলো রাস্তা হেঁটেই যাই।

নিকলি বেড়িবাঁধে যখন পৌঁছলাম, তখন বেলা সোয়া ১ টা বাজে। গিয়ে দেখলাম, বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ নিকলি বেড়িবাঁধে ভিড় করে আছে। হাজার হাজার মানুষ, পৃথিবীর সবাই সম্ভবত আজ নিকলি হাওড়ে বেড়াবে। প্রচুর নৌকা ঘাটে, ছেড়েও যাচ্ছে অনেক নৌকা। সে এলাহী ব্যাপার!! ভিড়, রোদ, গরম, পেটে ছুঁচোর কেত্তন- সব মিলিয়ে আমাদের মাথা ঘুরতে লাগলো!!

আয়োজকদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেল তারা তখনও মিঠামইন পৌঁছাননি, মিনিট ১০-১৫ লাগবে।
আমরা একটা স্পিডবোট ঠিক করলাম। নৌকায় যেখানে দেড় দুই ঘন্টা সময় লাগে, স্পিডবোটে সেখানে ২০-২৫ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায়। সুতরাং, আমরা তাদের কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে যেতে পারব।

যদিও বেশ ঝামেলা হল, বাড়তি খরচ হল, তবু আমার মজাই লাগলো। হাওড়ে সবাই নৌকাতেই ঘোরে, স্পিডবোটে চড়ার এই অভিজ্ঞতাটা সবার হয় না, আমাদের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে হয়ে গেল।

স্পিডবোটে চড়ে এতক্ষণের অস্থিরতা, গরমের কষ্ট সবই কমে এলো। চারিদিকে যতদূর চোখ যাচ্ছে, কেবল জল আর জল। এত বিশাল জলরাশি আমি কেবল সেইন্টমার্টিন যাওয়ার সময়েই দেখেছি, যে জলের কোন কূল কিনারা নেই। কিন্তু, এত কাছ থেকে সেই জল দেখা যায় না। জাহাজের উপর থেকে দেখতে হয়। আর সমুদ্রের সে জল এমন আপনও নয়, নীল রঙের জল কেমন অপরিচিত ঠ্যাকে। এই জল পুকুরের জলের মতই, নদী বা খালের মতই, চাইলে ছুঁয়ে ফেলা যায়। মনে হয়, ঝাপ দিয়ে খানিকটা সাঁতার কেটে আসি।
মাথার উপর ঘন নীল আকাশ গিয়ে মিশেছে ডানে বামে, সামনে পিছনে জলের সাথে, সেই আকাশে সাদা সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য!!
আমি স্পিডবোটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লাম, ঝড়ের মত বাতাসে আমার মনে হল, আমি আকাশে উড়ে যাচ্ছি, মুহূর্তের জন্য মনে হল-পৃথিবী কী সুন্দর!! মনে হল- বেঁচে থাকা কী সুন্দর!!

প্রচুর ইঞ্জিনের নৌকাকে পিছনে ফেলে আমরা দ্রুত সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। সেই নৌকাগুলোতে আমাদেরই মত বেড়ানোর লোক, কোন কোন নৌকায় প্রচুর বাইক দেখলাম। বুঝলাম, তারা মিঠামইন-অষ্টগ্রাম রাস্তায় বাইক চালাবে।
আহা!! এই রাস্তায় বাইকে চড়তে পারলে বেশ হয়!! ফাঁকা রাস্তায় স্পিডে বাইকে চড়ার অনুভূতি দারুণ!! গতি এক দারুণ জিনিস!! জীবনে গতি থাকলে সবাই তাকিয়ে দ্যাখে সত্যি!! চারপাশের নৌকাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় এই উপলব্ধি আবারও হল।

মিঠামইন পৌঁছাতে প্রায় ২ টা বেজে গেল।

মিঠামইনে সাবেক রাষ্ট্রপতি’র বাসভবন ঘুরে দেখলাম আমরা। ডিজি স্যারের সাথে ভ্রমণের সুবাদে বাড়ির ভিতরে ঢোকা গেল। বাড়িতে রাষ্ট্রপতি’র ছোটভাইয়ের সাথে দেখা হল আমাদের, অমায়িক মানুষ তিনি। নিয়মিতই এমন দর্শনার্থীদের উৎপাত হয় নিশ্চয়ই, অথচ, তাদের চোখেমুখে কোন বিরক্তি নেই, বরং আমাদের চা খাওয়ার জন্য খুব পীড়াপীড়ি করলেন। কিন্তু, আমাদের তাড়া ছিল। আড়াইটা বেজে গিয়েছে। মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রাম যাব আমরা, সেখানে একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠান হবে, এরপর খাওয়া। সুতরাং, চা খাওয়ার ইচ্ছে আমাদের হল না।

রাষ্ট্রপতির বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমরা অটোরিক্সা নিলাম অষ্টগ্রাম যাওয়ার জন্য। অটোরিক্সাগুলো জিরো পয়েন্ট গিয়ে আমাদের নামিয়ে দিয়ে বলল, এখান থেকে আলাদা অটো নিতে হবে অষ্টগ্রাম যেতে হলে। ভারী হুজ্জত তো!! কিন্তু, কিছু করার নেই, এদের সব সিন্ডিকেট।

আমরা আরেকটা অটোরিক্সা নিলাম অষ্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। এবার শুরু হল সেই রাস্তায় জার্নি, যে রাস্তাটা এতদিন ছবিতে দেখেছি। দুই পাশে সীমাহীন জলরাশি, মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে রাস্তা। মনে হচ্ছিল নেমে একটু হাঁটি, প্রিয় কোন মানুষকে সাথে নিয়ে।
এমন রাস্তা আমি মালয়েশিয়ায় দেখেছি, সেটা অবশ্য রাস্তা নয়, ব্রিজ। সমুদ্রের মধ্য দিয়ে ব্রিজ। রাস্তার দুই দিকে যতদূর চোখ যায়, শুধু নীল জল। তবে, সেই রাস্তায় নামা যায় না। প্রচন্ড গতিতে সেখানে গাড়ি চলে।

এই রাস্তায় নামা যায়, নেমে গায়ে বাতাস লাগিয়ে হাঁটা যায়, ছবি তোলা যায়। রাস্তার ডানপাশে সেই জলের মধ্যে দু’একটা থোকা থোকা বাড়িঘর, উঁচু টিলার উপর, সাঁকো পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। দুইপাশেই শত শত হাঁস চরে বেড়াচ্ছে। আর এত বাতাস বইছে সেই রাস্তায়!
তবে, ছবিতে যেমন ফাঁকা রাস্তা দেখা যায়, তেমন আমরা পেলাম না। প্রচুর অটোরিক্সা আর মোটরবাইক। দুইপাশে প্রচুর লোক নেমে ছবি তুলছে।

আমরা মিনিট পাঁচেকের জন্য এক জায়গায় নামলাম। কিছুক্ষণ হাঁটলাম। এরপর আবার রওনা দিলাম।

অষ্টগ্রাম যেতে সাড়ে ৩ টা বাজল। ক্ষিধেয় তখন পেট ব্যথা শুরু হয়েছে। ভাবলাম, নিশ্চয়ই এবার খেতে দেবে। কিন্তু, দেখি, তেমন তোড়জোড় নেই। সবাই মুখ শুকনো করে এদিক সেদিক ঘুরছে, কোন নির্দিষ্ট জায়গায় কিছু হচ্ছে না। কেউ কিছু বলছেও না। এর কাছে, ওর কাছে জিজ্ঞেস করে যা জানলাম, তাতে মাথা দ্বিগুন বেগে ঘুরতে লাগলো!!

ঘটনা হলো- যে নৌকায় করে সবাই মিঠামইন এসেছে, সেই নৌকায় করে এরা রান্নার জিনিসপত্র এনেছে। এখানে এসে রান্না করবে, আমরা অষ্টগ্রাম আসতে আসতে রান্না হয়ে যাবে, খেতে দিয়ে দেবে- সেই পরিকল্পনা ছিল। নৌকা এখনো এসে পৌঁছায়নি, রান্না হওয়া তো দূর। একেই তো নিকলি থেকে সাড়ে ৯টার বদলে রওনা দিয়েছে সাড়ে ১১টায়, সেখানে দুই ঘন্টা দেরি, তারপরে সে বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় হাওড়ে জল কম, নৌকা একটু পর পর চরে আটকে গিয়েছে সারা পথ। মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রাম আধা ঘন্টায় আসার কথা থাকলেও লেগে গেল ২ ঘন্টা।

৪ টার পর নৌকা এসে পৌঁছালো। এরপর তারা রান্নার আয়োজন শুরু করলেন। এই রান্না কখন হবে, কখন খেতে দেবে….. বেশিক্ষণ ভাবতে পারলাম না, ক্ষিধেয় ঘুম এসে যাচ্ছিলো….

সাড়ে ৫ টা নাগাদ একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠান হলো এক অডিটোরিয়ামে। ৬ টা নাগাদ আমাদের জানানো হল, রান্না হয়ে গিয়েছে, সবাই যেন নৌকায় উঠে পড়ে। নৌকায় উঠে খাবার দেওয়া হবে।

আকাশে মেঘ জমছিল, সবাই তাড়াহুড়ো করে নৌকায় উঠে পড়ল। নৌকায় উঠে শুনি একজন চেচামেচি করছে- তার ফোন চুরি হয়েছে ব্যাগ থেকে। অনেক খুঁজেও পাওয়া গেল না। অবশেষে সাড়ে ৬ টা নাগাদ নৌকা ছেড়ে দিল, ততক্ষণে সূর্য পশ্চিম আকাশের প্রান্তে নেমে গিয়েছে আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। পূব আকাশে তাকিয়ে দেখি, রংধনু জ্বলজ্বল করছে। পুরো আকাশ জুড়ে সোনা রঙের রোদ ছড়িয়ে পড়েছে!! কী যে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য!! অথচ, মনের মধ্যে শুধু একটাই কথা ঘুরছে- খেতে দেবে কখন!! খেতে দেয় না কেন!!

এসিডিটি হয়ে আমার পেটে তখন এমন জ্বালাপোড়া করছে যে, ভয় হচ্ছে, আমি মাথা ঘুরে পড়ে না যাই। এমন রেকর্ড আমার আছে! সুতরাং, ভয়টা অমূলক না! বেশি জলও খেতে পারছি না, ওয়াশরুমে কিভাবে যাব- এই চিন্তায়।
নৌকায় সবারই কম বেশি একই অবস্থা। অথচ, আমি অবাক হয়ে ডিজি স্যার আর পরিচালক (অনুষ্ঠান) স্যারের ধৈর্য্য দেখছিলাম। এত এত ঘটনার পরেও তাঁরা ধৈর্য্য ধরে, শান্ত হয়েই শুধু নেই। বরং তারা দুজনেই বলছেন- জীবনে এসব অভিজ্ঞতা জমা না হলে জীবন পানসে।
তখনো আমরা বুঝিনি, অভিজ্ঞতার আসলে কিছু শুরুই হয়নি। অভিজ্ঞতা শুরু হবে আরও ঘন্টা দুই পরে।

সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ তারা আমাদের খেতে দিলো। এরপর শুরু হল র‍্যাফেল ড্র পর্ব। জীবনে প্রথমবারের মত র‍্যাফেল ড্র তে নিজের নাম উচ্চারিত হতে শুনে আমার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকলো।

র‍্যাফেল ড্র শেষ হতে পারলো না, মাঝিরা চেচামেচি শুরু করলেন- নৌকায় সবাইকে বসে পড়তে বললেন। কোন একটা ঝামেলা হয়েছে বুঝলাম। কী হয়েছে?? শুনলাম, নৌকা চরে আটকে গিয়েছে।

অনেকেই খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। সত্যি বলতে, আমার খুব দুশ্চিন্তা হলো না। এই ধরণের পরিস্থিতিতে আমি এর আগে কখনো পড়িনি। নৌকা চরে আটকে গেলে কী হয়, আমি জানিনা।এজন্য আমার খুব একটা ভয় করল না। ভাবলাম, ছাড়াবে নিশ্চয়ই কোনভাবে।

৩০ মিনিটেও যখন নৌকা চর থেকে নামলো না, একটু চিন্তা হল। তখন, ‘জাব উই মেট’ সিনেমার গীত চরিত্রের মত বলতে ইচ্ছে করছিল- “হে ঈশ্বর, এই রাত কে বোরিং বানিয়ে দাও, অনেক এডভেঞ্চার হয়েছে, আর চাই না।” কিন্তু, কে জানতো, এডভেঞ্চার তখনো বহুত বাকি!!

নৌকার অনেকেই জলে নেমে পড়ল নৌকা ঠেলতে। ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় নৌকা ছুটল। সবাই হাফ ছাড়লো।

কিন্তু, মিনিট বিশেক পরে সবাই আবিষ্কার করল- নৌকা একই জায়গায় ঘুরছে, একবার বামে, একবার ডানে। ঘটনা কী বোঝার জন্য একজনকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উত্তর দিলেন- নৌকা পথ ভুল করে এমন এক জায়গায় ঢুকে পড়েছে, যেখানে পানি একদম কম। আর চারপাশ দিয়ে পানির তলায় উঁচু মাটির রাস্তা, নৌকা এই রাস্তা টপকে এখন বেরোতে পারছে না, বেরোনোর রাস্তাও খুঁজে পাচ্ছে না।
বোঝ ঠ্যালা!!

আমি অস্থির হয়ে আয়োজকদের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, “এখন কী হবে?”
তিনি বললেন, ফায়ার সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা আসছে আমাদের উদ্ধার করতে।

ব্যাপার তাহলে বেশ গুরুতরই, যেহেতু ফায়ার সার্ভিস লাগছে!! একটু দুশ্চিন্তা শুরু হল।

ততক্ষণে রাত ৯ টা বেজে গিয়েছে। আকাশে শুক্লা একাদশীর চাঁদ, ঢলঢলে জোছনায় পুরো হাওড় প্লাবিত হচ্ছে। হালকা ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে, ছোট ছোট ঢেউয়ের উপর চাঁদের ছায়া দুলছে, অপার্থিব দৃশ্য….

এই অভাবনীয়, অকল্পনীয় দৃশ্যের মধ্যে বসে থেকে আমার কেবল মনে হচ্ছে, একটু ওয়াশরুমে যেতে পারলে ভালো হত!! কখন যাব!! সেই বেলা দুটোয় শেষ ওয়াশরুমে গিয়েছি, রাত ৯ টা বাজে, আর কতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়!! পেট, পিঠ- সবই ব্যথায় টনটন করছে। দুইজন নারী সন্ধ্যায় নৌকার ওয়াশরুম ব্যবহার করে এসে যে মুখভঙ্গি করেছিলেন, সেখানে যেতে সাহস পাচ্ছি না। কী করি!!

১০ টার দিকে ফায়ারসার্ভিসের নৌকা এসে পৌঁছাল। সবাই একটু আশার আলো দেখতে পেলো। কিন্তু, তারা এসেও বহুক্ষণ ধরে শুধু এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলো বেরোনোর পথ খুঁজতে। আমাদের নৌকা এক জায়গায় স্থির হয়ে ভাসতে থাকলো।

আর না পেরে নৌকার ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্যই গেলাম। বাপরে!! সেও এক অভিজ্ঞতা বটে!! এমন শাস্তিও হয়!! হামাগুড়ি দিয়ে নৌকার এ মাথা থেকে ও মাথা পৌঁছাতে হয়, ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। পৌঁছানোর পরেও সেই ওয়াশরুমে নীলডাউন হয়ে ঢুকতে হয়, ভয়াবহ ব্যাপার!! কিভাবে সেখানে ঢুকলাম আর বেরোলাম, কে জানে!!

সাড়ে ১০ টা নাগাদ নৌকা চলতে শুরু করল। ফায়ার ফাইটাররা বললেন, তাদের নৌকাকে অনুসরণ করার জন্য। আমরা ভাবলাম, সমাধান হয়েছে। কিন্তু, সমাধান আসলে হয়নি। আমাদের নৌকা তাদের অনুসরণ করতে পারছিল না। কারণ, এই নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি লোক থাকায় নৌকার তলা বারবার চরে আটকে যাচ্ছিল।

কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের নৌকা থেকে বলা হলো, নারী শিশুসহ কয়েকজন তাদের নৌকায় উঠে যেতে। ডিজিস্যারসহ আমরা যারা ঢাকায় ফিরব, তাদের সেই নৌকায় ওঠার ব্যবস্থা হলো। তারা জানালেন, সর্বোচ্চ ১২ জনকে তাদের সাথে নিতে পারবে। ডিজি স্যারসহ সবাই ফায়ার সার্ভিসের নৌকায় উঠে পড়লেন। একেবারে শেষ ব্যক্তি হিসেবে যখন আমি উঠতে যাব, তারা নৌকা সরিয়ে নিলেন। বললেন, আর লোক উঠলে আমাদের নৌকাও চরে আটকে যাবে।

আমি দুঃখে, হতাশায় তখন কী করব- দিশা পেলাম না। এই প্রথম আমার ভয় করতে লাগলো!! মনে হল- আজ রাতে আর বাসায় পৌঁছানো হবে না। বাসায় আমার ৫ বছরের শিশু কন্যা আমার অপেক্ষায় রয়েছে! আমার কান্না পেতে লাগলো!!

কিছুক্ষণ পর আকাশ কালো করে মেঘ জমল, তার পরপরই নামল বৃষ্টি।
এই বৃষ্টি যদি ব্যাপকভাবে নামে, কী হবে কে জানে!! আমাদের সঙ্গে ছোট শিশুরাও আছে!! নারী আর শিশুদের নৌকার ভিতরে ঢুকে বসতে বলা হলো, সেখানে ঘাড় মাথা পিঠ কুজো করে কোনরকমে বসে রইলাম। পিঠ টনটন করছে….

কিন্তু, সেই ব্যথা ছাপিয়ে আমার মাথায় শুধু ঘুরছে- পরিচিতরা সবাই ওই নৌকায় চলে গেলেন, আমি একা এখানে পড়ে রইলাম, আজ রাতে এই নৌকা যদি না পৌঁছায়!! বাসায় কখন যাব!! মা যদি জানতে পারেন, এখানে আটকে আছি, তাহলে তিনি তো দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে যাবেন। সকালের আগে যদি না পৌঁছাই, আমার মেয়েও অস্থির হয়ে যাবে, মেয়ের বাবাও!!
নানান চিন্তা করতে করতে কিছুক্ষণ পর শুনি বাইরে থেকে কে যেন আমার নাম ধরে ডাকছেন। খেয়াল করে শুনি, ফায়ার সার্ভিসের নৌকাটা ফেরত এসেছে। আমি তাড়াতাড়ি হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। এরপর ওঁরা আমাকে ওঁদের নৌকায় তুলে নিলেন। উঠে দেখি, ডিজি স্যার অস্থির হয়ে চেচামেচি করছেন, “তুমি রয়ে গেলে কিভাবে!!” আমার সঙ্গী সেই উপস্থাপক আপা কান্নাকাটি করে অস্থির- “আপনি কিভাবে রয়ে গেলেন!!”

ততক্ষণে রাত ১১টা। বৃষ্টি বেশ জোরে নামল। সেই বৃষ্টি আমার কাছে প্রশান্তি’র বৃষ্টিই মনে হল- কারণ, ততক্ষণে তীর কাছে আসতে শুরু করেছে। যতই বৃষ্টি আসুক, ডাঙায় যে পৌঁছাব- এই বিশ্বাস তখন মনের মধ্যে জন্মেছে!

রাত ১২টা ০৬ মিনিটে আমরা তীরে নেমে গেলাম। পিছনের নৌকা তীরে ভিড়তে প্রায় সাড়ে ১২ টা বাজলো। নিকলি’র ইউ এন ও, ফায়ার সার্ভিসের ইন চার্জ, এস পি- অনেকেই তীরে আমাদের জন্য সেই রাত ৯ টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন। সাংবাদিকও কয়েকজন জড়ো হয়েছেন দেখলাম। তারা ছবি টবি তুললেন আমাদের। ডিজি স্যারকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছিল?” স্যার বললেন, “কিছুই হয়নি আর ছবি তুলছেন ঠিক আছে, তবে এটা কিন্তু কোন নিউজ নয়, সেটা মাথায় রাখবেন।”
ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা ওই রাতে আমাদের খুব যত্ন করে জল, চা, বিস্কিট খাওয়ালো।
অনেকেই আমাদের অনুরোধ করলেন, রাতটা সার্কিট হাউজ বা ডাক বাংলোয় থেকে যেতে। কিন্তু, রাতে এখানে থেকে গিয়ে এই এডভেঞ্চার আর দীর্ঘায়িত করতে ইচ্ছে করছিল না আমার। আমরা রাজি হলাম না।

রাত ১টায় আমরা নিকলি বেড়িবাঁধ থেকে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। ভোর সাড়ে ৪ টায় এডভেঞ্চারাস রাত অবশেষে ফুরোলো, বাসায় ঢুকলাম। ৫টায় বিছানায় পিঠ লাগিয়ে মনে হল- বিছানাটা নৌকার মত দুলছে আর দুলছে…..
দুলুনিতে আমি অতল ঘুমে তলিয়ে গেলাম…..[চলবে]

শেয়ার Facebook

সাম্প্রতিক খবর

  • ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে ইউয়ান, চীনা মুদ্রার দাপট বাড়ছে কেন?

    August 13, 2026
  • নিকলি হাওড়ে হারিয়ে গেলাম

    August 13, 2026
  • জটিল অংকে আটকে পড়েছেন ট্রাম্প!

    July 28, 2026
  • সিনেমা দেখলে বয়স কমে?

    July 28, 2026
  • তাজমহল কি সত্যিই মন্দির ছিল?

    July 23, 2026

BDOUTLOOK.COM

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহমুদা জুয়েনা

bdoutlook2@gmail.com

  • Privacy Policy
BDOUTLOOK
  • হোম
  • দেশ
    • জাতীয়
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • বরিশাল
    • সিলেট
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
  • বিশ্ব
  • প্রবাস
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • আফ্রিকা
    • এশিয়া
    • অস্ট্রেলিয়া
  • রাজনীতি
  • অর্থবাণিজ্য
  • খেলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • ফিচার
    • শিল্পসাহিত্য
      • কবিতা ও ছড়া
      • গল্প
      • প্রবন্ধ-আলোচনা
      • রম্য
      • শিশুসাহিত্য
      • স্মৃতিকথা
      • শিল্পসাহিত্যের খবর
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • লাইফস্টাইল
    • ট্যুরিজম
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • ক্যাম্পাস
    • নারী
  • অপরাধ আইন আদালত
  • সাক্ষাৎকার